নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলামি গজল ও নাশিদের জগতে শিল্পীর কণ্ঠ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই কণ্ঠকে শ্রোতার কাছে আরও শ্রুতিমধুর ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে সাউন্ড ডিজাইনারের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। নেপথ্যে থেকে কণ্ঠের স্বচ্ছতা, শব্দের ভারসাম্য ও গানের আবেগ ফুটিয়ে তোলার কাজ করে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন পরিচিত ইসলামি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করা এক তরুণ সাউন্ড ডিজাইনার।
ইতোমধ্যে তার দক্ষ হাতে তৈরি হয়েছে দেশের জনপ্রিয় ইসলামি শিল্পীদের বেশ কিছু গজল ও নাশিদের সাউন্ড ডিজাইন। মাওলানা আব্দুল্লাহ আল আমিনের বেশ কয়েকটি গজলের সাউন্ড ডিজাইনের কাজও তিনি করেছেন। পাশাপাশি দেশের সুপরিচিত ইসলামি সাংস্কৃতিক ও শিল্পীগোষ্ঠী কলরবের বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
এছাড়া ইসলামি সংগীতাঙ্গনের পরিচিত শিল্পী মাওলানা জুবায়ের আহমেদ তাশরিফসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অসংখ্য শিল্পীর গজল ও নাশিদের সাউন্ড ডিজাইনের কাজ করেছেন তিনি। তার কাজ কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা কয়েকজন শিল্পীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন তিনি।
শব্দের আড়ালে নিখুঁত কারিগরি
একটি গজল শ্রোতার কানে পৌঁছানোর আগে এর পেছনে কাজ করতে হয় বিভিন্ন ধাপে। কণ্ঠ ধারণ, ভয়েস ক্লিনআপ, সাউন্ড ব্যালান্সিং, মিক্সিং ও মাস্টারিং—প্রতিটি ধাপেই প্রয়োজন দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা।
বিশেষ করে ইসলামি গজলের ক্ষেত্রে শিল্পীর কণ্ঠের আবেগ ও গানের মূল বক্তব্য অক্ষুণ্ন রেখে সাউন্ডকে আরও পরিষ্কার ও শ্রুতিমধুর করে তোলাই বড় চ্যালেঞ্জ। সেই কাজেই নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন এই সাউন্ড ডিজাইনার।
প্রতিটি শিল্পীর কণ্ঠ ও গানের ধরন অনুযায়ী আলাদা সাউন্ড আবহ তৈরির চেষ্টা করেন তিনি। এতে শিল্পীর কণ্ঠের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রেখেই গজলকে শ্রোতাদের কাছে আরও উপভোগ্য করে তোলা সম্ভব হয়।
গাজীপুরের বড়বাড়িতে কর্মস্থল ও প্রশিক্ষণ
বর্তমানে গাজীপুরের বড়বাড়ি এলাকায় তার অফিস ও কর্মস্থল। সেখান থেকেই ইসলামি গজল, নাশিদসহ বিভিন্ন সংগীতের সাউন্ড ডিজাইনের কাজ পরিচালনা করছেন তিনি।
সাউন্ড ডিজাইনের পাশাপাশি প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকেন তিনি। নতুন ও আগ্রহী সাউন্ড ডিজাইনারদের হাতে-কলমে শেখানোর পাশাপাশি সাউন্ডের বিভিন্ন কারিগরি বিষয় সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন।
ইসলামি গজল ও নাশিদের সাউন্ড ডিজাইন, কণ্ঠ পরিষ্কার ও প্রসেসিং, মিক্সিং-মাস্টারিং এবং মানসম্মত অডিও তৈরির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশজুড়ে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা
বর্তমানে তার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী সাউন্ড ডিজাইনের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাদের অনেকেই প্রশিক্ষণ শেষে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাউন্ড ডিজাইনের কাজ করছেন।
কেউ স্টুডিওতে কাজ করছেন, কেউ বিভিন্ন শিল্পীর গজল ও নাশিদের সাউন্ড ডিজাইন করছেন, আবার কেউ নিজস্বভাবে কাজ করে ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন।
শিক্ষার্থীদের শুধু সফটওয়্যার পরিচালনা নয়, একটি গজল বা নাশিদের কণ্ঠ কীভাবে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়, সাউন্ডের ভারসাম্য কীভাবে ঠিক রাখতে হয় এবং শ্রোতার কাছে মানসম্মত অডিও পৌঁছে দিতে কোন বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হয়—এসব বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
দেশজুড়ে বাড়ছে কাজের পরিধি
গাজীপুরের বড়বাড়িকে কেন্দ্র করে তার কাজের পরিধি দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিল্পী ও সংগীতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করে গজল, নাশিদ ও বিভিন্ন অডিও প্রজেক্টের সাউন্ড ডিজাইনের কাজ করাচ্ছেন।
একই সঙ্গে তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষার্থীরাও দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন। ফলে গাজীপুরের বড়বাড়ি থেকে পরিচালিত তার কার্যক্রমের প্রভাব ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।
ডিজিটাল যুগে ইসলামি সংগীতের নতুন সম্ভাবনা
বর্তমানে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ইসলামি গজল ও নাশিদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। শ্রোতাদের রুচির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উন্নতমানের অডিও প্রোডাকশনের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দক্ষ সাউন্ড ডিজাইনারদের প্রয়োজনীয়তাও আগের তুলনায় বেড়েছে।
শিল্পী যখন মাইক্রোফোনের সামনে কণ্ঠ দেন, তখন সেই কণ্ঠকে শ্রোতার মোবাইল, হেডফোন কিংবা স্পিকারে সুন্দরভাবে পৌঁছে দেওয়ার নেপথ্যের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সাউন্ড ডিজাইনাররা। তাদের কাজ দৃশ্যমান না হলেও একটি ভালো গজল বা নাশিদের সৌন্দর্যের পেছনে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
মাওলানা আব্দুল্লাহ আল আমিন, কলরবের বিভিন্ন শিল্পী, মাওলানা জুবায়ের আহমেদ তাশরিফসহ দেশের অসংখ্য ইসলামি শিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা এই তরুণ সাউন্ড ডিজাইনার ইতোমধ্যে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন।
একদিকে গাজীপুরের বড়বাড়ি থেকে দেশজুড়ে ইসলামি গজল ও নাশিদের সাউন্ড ডিজাইনের কাজ করছেন, অন্যদিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করছেন নতুন প্রজন্মের সাউন্ড ডিজাইনার। তার প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রায় ৫০–৬০ জন শিক্ষার্থীর অনেকেই ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন।
নেপথ্যে থাকা এই কারিগরের হাত ধরে ইসলামি গজল ও নাশিদে আরও উন্নতমানের সাউন্ড প্রোডাকশনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
মন্তব্য করুন