মো: আব্দুর রহীম মিঞা,টাঙ্গাইল :
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভায় ভোটার তালিকায় ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। ১ নং ওয়ার্ডের একাধিক ভোটারের অজান্তে তাদের স্বাক্ষর জাল করে জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তথ্য ৯ নং ওয়ার্ডে স্থানান্তরের অভিযোগে ভূঞাপুর থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নূরুল আমিন। পরে ৪ অক্টোবর তিনি উপজেলা প্রশাসন, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগের অনুলিপি প্রেরণ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১ নং ওয়ার্ডের অন্তত ৬-৭ জন বাসিন্দা নিজেদের ভোটার তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান, তাদের অজান্তে এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার তথ্য ১ নং ওয়ার্ড থেকে ৯ নং ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াত চক্রের কর্মকাণ্ড।
প্রাথমিকভাবে শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন মো. দেলোয়ার হোসেন (দুলাল), মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. জয়নুর রহমান, মো. কবির উদ্দিন, মো. নূরুল আমিন ও মো. আব্দুল খালেক।
এর আগে একই ধরনের জালিয়াতির শিকার হন বিএনপি নেতা ও আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হারুন অর রশিদসহ অন্তত ১৫ জন ভোটার। এ ঘটনায় গত সোমবার তিনি ভূঞাপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
হারুন অর রশিদ অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভোটার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার নিজের ও নিকটাত্মীয়দের ভোটার তথ্য ১ নং ওয়ার্ড থেকে ৯ নং ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। ভোটার স্থানান্তরের আবেদনপত্রে থাকা স্বাক্ষর তার বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের নয় বলে তিনি দাবি করেন। তার অভিযোগ, অসৎ উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এ জালিয়াতি সংঘটিত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবপুর গ্রামের অন্তত ১৫ জন ভোটারের নাম একইভাবে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে।
ভূক্তভোগীর মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন যারা আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্ধন্ধীতা করা ইচ্ছা প্রকাশ করে ছিলেন। হঠাৎ করেই জানতে পারে তারা তাদের ওয়ার্ডে ভোটাই নন।
এ ঘটনায় ১ নং ওয়ার্ডের ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাদের ভোটার তথ্য পুনরায় ১ নং ওয়ার্ডে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর পৌরসভার সিনিয়র অফিস সহকারী জিয়াউল হক বলেন, “পৌরসভার নামে যে প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি জাল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব হাসানের স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে।”
ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, “ভোটার স্থানান্তর সংক্রান্ত পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইদি আমীন বলেন, “ভোটার স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। তবে অভিযোগ এসেছে যে সংশ্লিষ্ট ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ কারণে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি।”