ধর্মপাশায় অযত্ন-অবহেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন, কাজে আসছে না মুক্তিযোদ্ধাদের
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: জাকিয়া সুলতানা
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্মিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। নির্মাণের প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ভবনটি থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কমপ্লেক্স ভবনের সামনে ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। মূল ফটকের সামনে রয়েছে বালুর স্তূপ এবং লোহার গেটে ধরেছে মরিচা। ভবনটি নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় মূল্যবান আসবাবপত্রও নষ্ট হচ্ছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কংস নদের পাড়ঘেঁষা এলাকায় প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭১ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি শেষ হয়। পরে ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর ভবনটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলা বাণিজ্যিকভাবে দোকান ও হলরুম ভাড়া দেওয়ার জন্য এবং তৃতীয় তলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অফিস ও সম্মেলন কক্ষ হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। দুটি বাণিজ্যিক তলায় রয়েছে ১৪টি দোকানঘর। তবে দীর্ঘদিনেও এসব কক্ষ ভাড়া না হওয়ায় কোনো আয় হচ্ছে না।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ভবনটির মূল ফটক ও দোকানঘরগুলো প্রধান সড়কমুখী না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার ভাড়া দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কালা মিয়া বলেন, নতুন ভবনে তাদের নিয়মিত আসা-যাওয়া নেই। কমিটি না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রমও হচ্ছে না। যে উদ্দেশ্যে ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিমুদ্দিন বলেন, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা ভবনটি থেকে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। ভবনের মূল ফটক ও প্রথম তলার কক্ষগুলো প্রধান সড়কমুখী করে পুনর্নির্মাণ করা হলে ভবনটি কার্যকর করা এবং আয়ের পথ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
ধর্মপাশা উপজেলা প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন বলেন, ভবনের প্রথম তলার কক্ষগুলো প্রধান সড়কমুখী করার বিষয়টি উদ্বোধন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার কক্ষগুলো আয়বর্ধক কাজে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়কেও অবগত করা হয়েছে।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে কমপ্লেক্স ভবনটি সংস্কার ও ব্যবহার উপযোগী করে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে কাজে লাগানো হোক।
মন্তব্য করুন