
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল করিম সিরাজীর উদ্যোগে বিশাল মোটরসাইকেল ও মিশুক গাড়ির শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ শোডাউনে অংশ নেন হাজারো নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে ধুবিল ইউনিয়নের ইছিদহ বাজার থেকে শোডাউনটি শুরু হয়। এতে প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল ও দুই শতাধিক মিশুক গাড়ি অংশ নেয়। মোটরসাইকেল ও মিশুক গাড়ির দীর্ঘ বহর নিয়ে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক, গ্রাম, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
শোডাউনে নেতৃত্ব দেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা আব্দুল করিম সিরাজী। তিনি বলেন, ন্যায়, নীতি, আদর্শ ও ইনসাফের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। আজকের এই শোডাউনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ভোটারদের কাছে তাঁর পরিকল্পনা, লক্ষ্য ও উন্নয়ন ভাবনার বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তিনি জনগণের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
তিনি আরও বলেন, ধুবিল ইউনিয়নের মানুষের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। বিশেষ করে বেকারত্ব দূরীকরণ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সংস্থা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় অসহায় পরিবারের মাঝে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, সেলাই মেশিন এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বিতরণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো।
মাওলানা আব্দুল করিম সিরাজী বলেন, জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করলে ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের সেবা ও নাগরিক সুবিধা কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়াই ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, দরিদ্র মানুষের জীবনমান পরিবর্তন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।
এ সময় তিনি মাদক, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ ধুবিল ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ইউনিয়নের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
শোডাউনে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। মোটরসাইকেল ও মিশুক গাড়ির বহরটি ধুবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড, গ্রাম ও বাজার প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় একই এলাকায় এসে শেষ হয়।
স্থানীয় পর্যায়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগের অংশ হিসেবে এ শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।