বাজিতপুর প্রতিনিধি:
মাঠের পর মাঠ সবুজ ধানের সমারোহ। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ফসল ফলান দেশের অগণিত কৃষক। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই হাড়ভাঙা খাটুনির পরও সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা বা প্রণোদনা পৌঁছাচ্ছে না প্রকৃত কৃষকদের দোরগোড়ায়। এমনই এক বঞ্চনার শিকার কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের নবুরিয়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক আকরাম হোসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমান চলতি মৌসুমের বোরো মৌসুমে নিজের জমিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে ধানের চারা রোপণ করেছেন তিনি। দিন দিন চাষাবাদের খরচ, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় সাধারণ কৃষকদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার প্রতি বছরই প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক এবং বিভিন্ন ধরনের কৃষি প্রণোদনা ও ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করে থাকে। কিন্তু স্থানীয় কৃষি অফিসের সঠিক তদারকি ও গাফিলতির কারণে প্রকৃত কৃষকেরা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক আকরাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা মাঠে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ফসল ফলাই। অথচ কৃষি কার্ড থাকা সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত সরকারি কোনো সার, বীজ বা কৃষি প্রণোদনা পাইনি। কোনো কর্মকর্তা কোনো দিন মাঠে এসে খোঁজও নেননি। ধার-দেনা করে চাষের খরচ চালাতে হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা যদি আমাদের মতো প্রকৃত চাষিরা না পায়, তবে কারা পায়?”
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি খাতায় সহায়তার নানা বিবরণ থাকলেও মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত কৃষকদের অনেকেই তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সঠিক তালিকা প্রণয়ন না হওয়া এবং কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রান্তিক কৃষকদের বাঁচাতে অবিলম্বে বাজিতপুর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এই কৃষক। তিনি আশা করেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন